নাটকের পাঠে আত্মনির্ভর বঙ্গ তনয়া

/zomato-girl-you-need-to-know-your-struggel

লাল জোম্যাটো টি শার্ট, হাতে রাইডারদের স্টাইলে ধরা হেলমেট, টেনে বাঁধা চুল, একেবারে অন্যরূপে  আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ছবি তুলেছিলেন সঙ্গীতা। তারপর নানা বঞ্চনা, গুঞ্জনের মুখ্য জবাব দিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা পোস্ট দেন। যেখানে তিনি 'সো কলড এলিট সোসাইটি (So Called Elite socity)'-উপরে ক্ষোভ উগনে দিয়ে জানান হ্যাঁ, আমি জোমাটো হয়ে খাবার দিই। 


সঙ্গীতাকে কতো অপমান, কত ব্যঙ্গর্তথ কথা শুনতে হয়েছেশুনতে হয়েছে । তাঁকে বলা হয়েছে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশি, আর্থিক সমস্যাও নেই তবুও কেন খাবার ডেলিভারির কাজ বেছে নিলেন? উত্তর দিতে দিতে হাঁপিয়ে ওঠেননি সঙ্গীতা। কারণ তিনি সমাজকে বোঝাতে বা শেখাতে চান, 'লোক না ঠকিয়ে যে পেশায় অর্থ উপার্জন করা যায়, সেটাইই সম্মানের'। তিনি সুর চড়িয়ে জানিয়েছেন, 'আমরা খাবার ডেলিভারি করি, আন্ডার টেবিল টাকা নয়'।

সাহসী মেয়েটির এই সোজাসাপ্টা উত্তর নেটিজেনদের চিত্র জয় করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশের মনের কথা বলে দেওয়ায় অগত্যা ভাইরাল সঙ্গীতা। সে উড়তে চায়, দৌড়াতে চায়, পড়ে যেতেও চায় কিন্তু থামতে চায় না।  সে নিজের মত করে বাঁচতে চায়। সমাজের চোখে তিনি ডানপিটে । বাইক চালাতে ভালোবাসেন। 

কিন্তু প্রশ্ন তো জাগেই কেন এই লড়াই? উত্তরে হাসতে হাসতে সঙ্গীতার জবাব থিয়েটার। আমি থিয়েটারে অভিনয় 
করতে ভালোবাসি । এটাই আমাকে লড়াইটা চালিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে প্রতিপদে। শিক্ষা দিয়েছে। লকডাউনে থিয়েটারের মানুষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতেই তাঁর এই পদক্ষেপ। তাঁর লক্ষ্য নাট্যব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠা। 

স্কুলের পাঠ মিটিয়ে পরিবারের ইচ্ছে মত ইংরেজি অনার্স নিয়ে কলকাতার কলেজে ভর্তি হলেও নাটকের প্রতি ভালোবাসা থেকে তা ছেড়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক নিয়ে পড়াশোনা শুরু তাঁর। সঙ্গে মঞ্চেও নাটক করতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায় করোনা আর লকডাউন।  মঞ্চের পিছনে থাকা মানুষগুলোর মুখের দিকে চেয়ে সঙ্গীতা আজ বাড়ি বাড়ি খাবার ডেলিভারি করেন।  

বেলঘড়িয়া নিমতার বাসিন্দা সঙ্গীতা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশের আদর্শ। যদিও এই পরিচিতি তাঁর লক্ষ্য ছিল না। নাটকের থেকে জনপ্রিয়তা পেতে চায় সে। পরিবারও যে খুব সঙ্গ দিয়েছে বা পাশে ছিল তাঁর এমনটা নয়। আপত্তি ছিল, কারণ সংসারে তো অভাব নেই! কিন্তু সঙ্গীতার মনে সেই মানুষ গুলোর চিন্তা রয়েছে,যাঁরা মঞ্চের পিছনে থাকেন। তাঁদের খাওয়া জুটছে না। তাই তাঁদের জন্য আজ জোম্যাটো গার্ল সঙ্গীতা। নিকট আত্মীয়দের মন্তব্যকে তোয়াক্কা না করে রাস্তায় নেমে রোজগারের পথ খুঁজে নিয়েছেন তিনি। রোজই সে বেরিয়ে পড়ছেন খাওয়ার সরবারহ করতে। এখন তাঁর মাও মেয়ের এই কাজে গর্বিত। মেয়ের এই খ্যাতি তিনি আজ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছেন।

Fri 4 Jun 2021 19:12 IST | আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক