মার্কিন-ইউরোপ সম্পর্কের ভিতে আঘাত

trumps-troop-cut-in-germany-blindsided-senior-us-officials-sources-say

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর তুঘলকি কান্ড আমেরিকার বিদেশনীতিকে কি ইউরোপ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দেবে? দেশের ভেতরে করোনার সংক্রামণ ও মৃত্যুর ধারাবাহিক বৃদ্ধি, কলকারাখানার বেহাল অবস্থা, বেরুজগারি নিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও মধ্যবিত্তের রোষের আক্রোশ, শ্বেতাঙ্গ তরুণ--- জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে দেশের ভিতরে ও বাইরে তীব্র অসন্তোষে হোয়াইট হাউস এমনিতেই দিশেহারা। এরই মাঝে ট্রাম্প হঠাৎ ঘোষণা করে বসলেন, আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী সহযোগী জার্মান থেকে সাড়ে ৯ হাজার মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে। 

রয়টার্স বলেছে, সপ্তম জি-৭-এর শীর্ষে বৈঠক নিয়ে ট্রাম্প আর অ্যাঞ্জেলার মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়, সম্প্রতি। মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জার্মানি থেকে সেনা সরানোর সঙ্গে দুই রাষ্ট্রনেতার মতানৈক্যের কোনও সম্পর্ক নেই। ফৌজ প্রত্যাহার নিয়ে একমাস জুড়ে কর্মসূচি তৈরি করেছেন সেনা কর্তারা। তারই ভিত্তিতে ট্রাম্প সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। 

অন্য একটি সূত্র বলেছে, হোয়াইট হাউসের বহু আধিকারিক, বিদেশ মন্ত্রক এবং পেন্টাগন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে বিস্মিত।সিদ্ধান্তের সঙ্গে জি-৭ বৈঠক নিয়ে ট্রাম্প-অ্যাঞ্জেলার মতবিরোধ জড়িয়ে আছে। ট্রাম্পের ঘোষনার সঙ্গে তাঁর একান্ত অনুগত, জার্মানির ভূতপূর্ব মার্কিন দূত রিচার্ড গ্রিনল-এর ভূমিকা থাকতে পারে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র বলেছেন, ১ জুন রিচার্ড পদত্যাগ করেছেন। সেনা সরানোর পরিকল্পনার পেছনে  তাঁর 'অদূশ্য হাত' কতটা সক্রিয়, রয়টার্স এর কোনও আভাস দেয়নি। রিচার্ডকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছেন, আমার ভূমিকা নিছক একটি গুজব। তিনি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর সতর্কতার সঙ্গেই এড়িয়ে গেছেন।   

নিজের দলের (রিপাবলিকান) ভেতরেও ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে মৃদু গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিনিধি সভার (হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভস) আমর্ড সার্ভিস কমিটি ট্রাম্পকে লিখিতভাবে বলেছে, জার্মানিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনার সংখ্যাহ্রাসের সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিপন্ন করে তুলবে। এতে বেড়ে উঠবে রাশিয়ার 'আগ্রাসন'।

বিদেশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলে পাঠিয়েছে। এই তিন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের অন্ধকারে রেখে হঠাৎ ট্রাম্প সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।জার্মানির সরকারি অফিসাররা বলেছেন, মার্কিন তৎপরতার নিশ্চিত খবর পায়নি বার্লিন  দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জার্মান কো-অর্ডিনেটর পিটার বিয়ার বলেছেন, যদি সত্যি সত্যি ট্রাম্প সেনা সরিয়ে নেন, তাহলে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ভিত নড়ে উঠবে। 

১৯৮৯ সালে, বার্লিন ওয়াল পতনের মুহূর্তে জার্মানিতে ২ লাখ সেনা পাঠায় ওয়াশিংটন। ক্রমশ তাঁদের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৩৪, ৫০০। এবার ৯,৫০০ কমলে মার্কিন জার্মানির সম্পর্ক জটিলতর হয়ে ওঠার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ইউরোপে রাশিয়া প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। বাণিজ্যের অনেকটাই চিনের দখলে । করোনা-উত্তর ইউরোপ ওয়াশিংটন থেকে মুখ বাঁ দিকে ঘুরিয়ে নিলে আভ্যন্তরীন ও বৈদেশিক বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়বে।  

Wed 10 Jun 2020 14:02 IST | ওয়েব ডেস্ক