ষষ্ঠীর সকাল থেকেই উৎসবের আনন্দে ভাসছে শহর

durga-puja-2021-suvo-maha-sashti-kolkata-celebration

ষষ্ঠীর সকাল। শরতের আকাশে মেঘ-রোদের লুকোচুরি। শহরজুড়ে মহোত্সবের আবহ৷ উত্তর, দক্ষিণ, সব জায়গাতেই এক ছবি৷ সকাল থেকে মন্ডপে মন্ডপে ব্যস্ততা তুঙ্গে। ঢাকের তালে আগমনী সুর। আকাশে বাতাসে পুজোর গন্ধ ভরপুর৷ কচিকাঁচা থেকে বড়রা- সকলেরই পুজো শুরু৷ আজ দেবীর বোধন। বোধনের পর দেবীর অধিবাস৷ বিল্ববৃক্ষের তলায় দেবীর আরাধনা৷ গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী, সরস্বতী-সপরিবারে একরাত সেখানেই থাকবেন মা দুর্গা৷ সপ্তমীর সকালে পা দেবেন বাপের বাড়িতে৷ 

আজ কলাবউ স্নান অর্থাৎ নবপত্রিকার স্নান ।  দুর্গার পূজার সঙ্গেই ওতপ্রোত জড়িয়ে এই নবপত্রিকার পূজা। নবপত্রিকার আরাধনার মধ্য দিয়ে মানুষের উৎসব পালন এবং ধর্মাচরণের বহু প্রাচীন রীতি অতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে।  দুর্গাপুজোর যেমন মাহাত্ম্য, তেমনই স্বতন্ত্র তাৎপর্য আছে নবপত্রিকা এবং তার পুজোরও।

নবপত্রিকা অর্থাৎ কলাগাছ, গুঁড়ি-কচুর গাছ, হলুদ গাছ, জয়ন্তীর ডাল, বেলের ডাল, দাড়িম গাছ, অশোকের ডাল, মানকচুর গাছ ও ধানের গাছ। এই ন-টি গাছ আবশ্যক নবপত্রিকা রচনায়। বেলতলায় দেবী দুর্গার পাশাপাশি  নবপত্রিকারও অধিবাস হয়। এরপর এই গাছগুলি আর শুধু গাছ থাকে না। হয়ে ওঠে দেবীর প্রতীক। কলাগাছ ব্রাহ্মণী, গুঁড়ি-কচু দেবী কালিকা, হরিদ্রা হন দেবী দুর্গা স্বয়ং। জয়ন্তীর অধিষ্ঠাত্রী দেবী কার্তিকী।  বেলের অধিষ্ঠাত্রী শিবা। দাড়িম বা ডালিম গাছে রক্তদন্তিকার অধিষ্ঠান। অশোকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী শোকরহিতা। মানকচুগাছে অধিষ্ঠাত্রী দেবী চামুণ্ডা। আর ধানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী লক্ষ্মী। দেবী দুর্গার পুজো শুরু হয় সপ্তমীর দিন। সেদিন সকালে হয় নবপত্রিকার স্নান। এই নয়টি গাছকে পাট দিয়ে বাঁধতে হয়। পাট অর্থে রেশমের দড়ি বোঝায়, যদিও এখন নিয়ম অনুযায়ী সামান্য রেশম রাখা হয়। এরপর সেটিকে নিয়ে যাওয়া হয় বেলতলায়। যে শাখায় জোড়া বেল থাকে, সেই শাখাটিকে কেটে এবার জুড়ে নেওয়া হয় নবপত্রিকার সঙ্গে। রাজার অভিষেকে যেমন নানা নদী বা সমুদ্রের জল প্রয়োজন হয়, নবপত্রিকাকে স্নানের সময়ও সেই রীতি। নানা ঘটের জলে স্নান করানো হয় নবপত্রিকাকেও। এরপর বিধিমতে পুজো করে সেটিকে স্থাপন করা হয় দুর্গাপ্রতিমার ডান পাশে। গণেশের ঠিক পাশটিতে অবস্থান করে  কলাবউ।

প্রাচীনকাল থেকেই  নবপত্রিকার আরাধনা অঙ্গীভূত হয়েছে দুর্গার অকালবোধনের সঙ্গে। এই রীতি তাই আজও সাক্ষ্য বহন করে আমাদের অতীত উৎসবের। সাক্ষ্য দেয় সেই বিবর্তনেরও, যেখানে অতীত রীতির সঙ্গে সময়ের পরত যোগ হতে হতে বদলে গিয়েছে, মানুষের উৎসবও । 

ষষ্ঠীর সকাল থেকেই ঠাকুর দেখার ভিড়৷ নতুন জামাকাপড়৷ নতুন জুতো৷ হৈ-হুল্লোড়, খাওয়া-দাওয়া৷ উৎসবের আনন্দে ভাসছে শহর। থিম, সাবেকিয়ানা, নান্দনিকতায় মিলে-মিশে উদযাপনের রঙ৷ 

Mon 11 Oct 2021 11:16 IST | আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক