সুপ্রিমকোর্ট: বিচার ব্যবস্থায় সকলের সহযোগিতা কাম্য। কৃষি আইন পর্যালোচনায় কমিটি গঠন 

farmers-protest-supreme-court-in-favour-of-forming-committee-to-review-farm-laws

আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত মোট ৮ দফা বৈঠক হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। কিন্তু তাতে কোনও সমাধানই বেরিয়ে আসেনি। কৃষকদের মতামত নিয়ে কেন্দ্র আইনে সংশোধন ঘটাতে রাজি হলেও, আন্দোলনকারীরা তাতে রাজি হননি। বরং সম্পূর্ণ আইন প্রত্যাহারের দাবিতেই অনড় তাঁরা। তাই কমিটি গঠন করে বিষয়টি পর্যালোচনা করাই শ্রেয় বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

যদিও সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে রাজি হয়নি কৃষক সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, কোনওরকম সংশোধন নয়, কোনও কমিটির সঙ্গে কথা নয়, সম্পূর্ণ ভাবে আইন প্রত্যাহার করতে হবে সরকারকে।  তাঁদের আইনজীবী আদালতে তা জানালে প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে, এএস বোপান্না এবং ভি রামসুব্রহ্মণ্যমের ডিভিশন বেঞ্চ বলে, 'এটা রাজনীতি নয়। রাজনীতি এবং বিচার ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কাম্য।'

কমিটি গঠন হলেই নতুন কৃষি আইন  সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করে আদালত।  বিচারপতি জানান, আইন ৩টির বৈধতা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন আমরা। একই সঙ্গে একটানা আন্দোলনের জেরে মানুষের জীবনযাত্রা এবং সম্পত্তির উপর যে প্রভাব পড়েছে, তা-ও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কৃষকদের এই বিক্ষোভে প্রবীণ, মহিলা ও শিশুদের যুক্ত না করারও নির্দেশ দেয় আদালত। একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশ, বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য কৃষকরা রামলীলা ময়দান বা এধরনের অন্য কোনও স্থান বেছে নিক। অনুমতির জন্য দিল্লি পুলিস কমিশনারের কাছে তাঁরা দরখাস্ত করুক। 
ক্ষমতা প্রয়োগ করে আইন স্থগিত রাখতে পারি আমরা। কিন্তু অনির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত আইন স্থগিত রাখা যায় না। কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত একটি বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়া, এর ফলে বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাবে। আপনারা যদি অনির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান, যান। আমরা নিজেদের জন্য এই কমিটি গঠন করছি। যাঁরা সত্যি সত্যি সমাধান চান, তাঁরা এই কমিটির কাছে যাবেন। ওই কমিটি কোনও সিদ্ধান্তও নেবে না, কোনও শাস্তিও দেবে না। গোটা বিষয়টি নিয়ে কমিটি শুধু আমাদের রিপোর্ট দেবে।'

কিন্তু কৃষকরা অনড়,  কোনও কমিটির সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত নন বলে আদালতে  জানান তাঁদের হয়ে সওয়াল করতে আসা আইনজীবী এমএল শর্মা। তিনি যুক্তি দেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একবারও তাঁদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন দেখাননি। তাই কোনও কমিটির সঙ্গে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু প্রধানবিচারপতি বলেন, 'এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কিছু প্রশ্ন করা যাবে না কারণ এই মামলায় কোনও পক্ষ নন তিনি।'
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারি কৃষকদের খালিস্তান পন্থী গোষ্ঠীর মদত দিচ্ছে বলে শাসক শিবির থেকে বার বার অভিযোগ তোলা হয়েছে। কৃষি আইনের সমর্থনে আদালতে পিটিশন জমা দেওয়া পিএস নরসিংহও একই দাবি তোলেন। ‘শিখস ফর জাস্টিস’ সংগঠন কৃষকদের ক্ষেপিয়ে তুলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাতে সম্মতিতে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে বেণুগোপালও।  জবাবে আদালত জানতে চায়, কীসের ভিত্তিতে তাঁরা এমন দাবি করছেন? এ নিয়ে বুধবারের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়। 

Tue 12 Jan 2021 16:44 IST | ওয়েব ডেস্ক