অযোধ্যা:পুনর্বিবেচনার আবেদন টিকবে না

jamiat-ulemaehind-file-review-plea-against-scs-ayodhya-verdict.png

অযোধ্যা জমি-বিবাদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়-এর পুনর্বিবেচনার আবেদন পেশ করবে জমিয়ত-এ-উলামা। সোমবার। তাদের দাবি, মুসলিমদের ৯০ শতাংশ শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তে খুশি নন। মুসলিম পাসর্নাল ল বোর্ডও পুনর্বিবেচনার দাবিকে সমর্থন করছে। 

৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রায় ঘোষণা করেছে। সেদিন বাদিপক্ষের আইনজীবী জাফরইয়াব জিলানি সরাসরি জানিয়ে দেন, উচ্চতম আদালতের নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন আছে। রায় খতিয়ে দেখে আমরা পুনবির্বেচনার আর্জি পেশ করার কথা ভাবব। জমিয়ত উলামা তার তাৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়ায় বলেছিল, রায়কে সম্মান জানাচ্ছি। পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছি না। সুন্নি ওয়াকফবোর্ড ও এ ব্যাপারে তার ইতিবাচক মনোভাব জানিয়ে দেয়। রায় ঘোষণার আগে, জমিয়ত বলেছিল, সুপ্রিম কোর্টের রায় যা হোক না কেন আমরা মেনে নেব। 

দিন কয়েক আগে ১০০ মুসলিম বুদ্ধিজীবী, যাঁরা সমাজের নানরকম সঙ্কটে কখনও চুপ থাকেন নি, ঝুঁকি নিয়েছেন, তারা যৌথ বিবৃতিতে সই করে মুসলিম সমাজকে বাস্তব পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, বাবরি মামলা দীর্ঘদিন জিইয়ে রাখার মানে হয় না। এতে মুসলিমদের বিপদ বাড়বে। দ্বিতীয়ত, আদালত রায় ঘোষণা করার আগে আইনের নির্দেশকেই গুরুত্ব দিয়েছে। তৃতীয়ত, মুসলিমদের বহু জাগতিক সমস্যা রয়েছে, এসবের সমাধান দরকার। শুধু মসজিদের জমি বিবাদ নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। বুদ্ধিজীবীদের ঐ আবেদনের ঠিক পরেই মুসলিম বোর্ড ঘোষণা করে, তাঁরা পুনর্বিবেচনার আর্জি পেশ করবে না কিন্তু জমিয়ত তার ঘোষিত অবস্থান থেকে হঠাৎ সরে গেল এবং রায়টি আবার খতিয়ে দেখার আবেদন পেশ কররা কথা ভাবল। তখনই মুসলিম আইন পরিষদও বেঁকে বসল। ঠিক করল, তারাও ৯ ডিসেম্বরের আগে রিভিউ পিটিশন দাখিল করবে।

জমিয়ত-এ-উলামা দ্বিখন্ডিত। প্রয়াত নেতা আসাদ মদনির  মৃত্যুর পর নতুন নেতূত্ব গজিয়ে ওঠে। এক অংশ  কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত আর এক অংশ কংগ্রেস বিরোধী। এখনকার নেতা আরশাদ মদনি বিরোধী কণ্ঠের মুখ হয়ে উঠতে চাইছেন। বাবরি ইসু অন্যরা কেড়ে নিচ্ছে তা তাঁর সহ্য হবার কথা নয়। অতএব সবার আগে তাঁর নেতূত্বধীন অংশ পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুনর্বিবেচনার আবেদন টিকবে না । সম্ভবত সুপ্রিম কোর্ট গোড়াতেই খারিজ করে দেবে, একথা বিভিন্ন সংগঠনের অজানা নয়। জেনেই তাঁরা হঠকারি, সংশয়াচ্ছন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘোলা জলের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে মাছ ধরেত ব্যস্ত। 

সুপ্রিম রায়ে মুসলিমদের সন্তুষ্ট হবার কথা নয়। অসঙ্গতি আছে। বিতর্কিত জমিতে মন্দির আর মসজিদের জন্য আলাদা জমি বরাদ্দের নির্দেশে জনসংখ্যার বাহুবল সন্তুষ্ট হতে পারে কিন্তু দুর্বলের অস্বস্তি কমার কথা নয়। আবার একথা ভাবাও জরুরি, যে মামলা ভারতীয় সংহতি আর বহুত্বকে যুগ যুগ ধরে ভয় দেখাচ্ছে, বার বার উত্তেজনা আর রক্তক্ষয়ের কারণ হয়ে উঠেছে, প্রশয় দিয়েছে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে, তার নিষ্পত্তি দরকার ছিল। এই দাবি ভারতীয় যুক্তি ও বিবেকের এবং গণতন্ত্রের।সুপ্রিম কোর্ট দাবিটিতে  শিলমোহর  দিয়েছে, অনেক ভেবেচিন্তে।

 পুনর্বিবেচনার আর্জিও একধরণের উসকানি। সামনে সৌর্হাদ্য ধ্বংসের ৬ ডিসেম্বর, দিনটির স্মরণে অখিল ভারত সংহতির বিস্তার দাবি করে, সঙ্কটে ছড়াতে চায় আলো। কিন্তু কিছু কিছু সংগঠন প্রমাণ করছে, চোখ সামনে দূষ্টি তাদের পেছনে, গ্যালিলিও নাটকের পুরোহিতের মতো তারা কি অনবরত বলে যাবে, যে পথে হেঁটেছি, সে পথেই হাঁটব? বাবরি জমি ছাড়া কি অন্য কোনও সমস্যা নেই? হাজার হাজার ওয়াকফ ইস্টেট বেদখল। পরিত্যক্ত কিংবা ধ্বংসের মুখে এসব বিপুল সম্প্রতির পুনগঠনের আগ্রহ নেই কেন? হতাশা, সংশয়, শঙ্কা যে সমাজকে ঘেরাও করছে তার অবসানে সমাজের তথাকথিত  নেতৃত্বের সংঘটিত  নেতৃত্বে কোথায়?

Mon 2 Dec 2019 13:49 IST | ওয়েব ডেস্ক