নেই প্রণাম, নেই মিষ্টিমুখ, বন্ধ কোলাকুলিও, বাংলা জুড়ে অন্য বিজয়া

bengal-faced-different-type-of-bijaya-due-to-covid-and-afraid-of-people.png (

এবার পুজো কাটল নিয়ম মেনেই। আর সেই নিয়মের গেরোয়, বন্ধ হল প্রতিমা নিরঞ্জনের পর বাঙালির ঐতিহ্য সৌহার্দ্যের কোলাকুলি। আদালতের নিয়ম নাকি সচেতনতা? ‘দো-গজ কি দুরি’। মেনই শুধুই হাত তুলে নমস্কার।এ প্রসঙ্গে  সকলের একমত, আগে কখনও এমন অভিজ্ঞতা হয়নি। এটাই তো বাঙালিদের দস্তুর। কোলাকুলি করা গেল না এবছর। তবে হাত তুলে প্রণাম হচ্ছে। এবছর তো কিছু করার নেই। আশা করছি আগামী বছর আবার দশমীর কোলাকুলি হবে। 

কোভিডের কথা মাথায় রেখেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন এবার বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় হবে সোশ্যাল মিডিয়া অথবা ফোনের মাধ্যমে। এমনকি তাঁর বাড়িতে এবছর যেন কেউ বিজয়া সারতে না আসেন সে কথাও পার্থ চট্টোপাধ্যায় মারফত জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর দেখানো পথেই চলছে রাজ্য জুড়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানানোর পালা। কারও বাড়ি না গিয়ে, পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম না করে, গলায় গলায় কোলাকুলি না করে এবার সিংহভাগ বাঙালি হাতজোড় করে দূরত্ব বজায় রেখে নমস্কার করছে। সেখানে থাকছে না মিষ্টিমুখও। এই ছবি যেমন সচেতনতার বার্তা দেয় ঠিক তেমনি ভয়ও ধরায় অতিমারি চলে যাবে তো!  

মন খারাপের সুর থাকলেও, করোনাকে হারাতে সকলেই বদ্ধপরিকর। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, আক্ষেপ অবশ্যই একটা থাকছে। তবে আগামী বছর সব মিটিয়ে নেওয়া হবে। আনন্দ হবে দ্বিগুণ। ফলে আক্ষেপ থাকলেও, আশায় রয়েছে বাঙালি।বিজয়ার এই পদ্ধতি ধাক্কা দিয়েছে রাজ্যের মিষ্টি ব্যবসাতে । অনান্যবার পুজোর সময় কার্যত রেকর্ড মিষ্টি বিক্রি হয় এই রাজ্যে। সব দোকানেই থাকে উপচে পড়া ভিড়। এমনিতেই ধীরে ধীরে বাড়িতে বাড়িতে কার্যত নারেকেল নাড়ু থেকে অনান্য মিষ্টি তৈরি করার চল কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সবাই এখন বাইরে থেকে মিষ্টি কিনে বাড়িতে রাখেন। কিন্তু এবারে এই কোভিডকালে ফের ফিরেছে বাড়িতে মিষ্টি তৈরির পালা। সংক্রমণ ছড়ানোর ভয়ে অনেকেই এবারে আর দোকান থেকে মিষ্টি কিনে আনছেন না। বরঞ্চ তা বাড়িতে বসে তৈরি করতেই বেশি পছন্দ করছেন। আর তার জেরে মিষ্টির দোকানে ভিড় এবার অনেকটাই কমেছে। কমেছে বিক্রিবাটাও।

Tue 27 Oct 2020 13:54 IST | ওয়েব ডেস্ক