মহিলাদের নিরাপত্তায় এগিয়ে এল ‘কলকাতা’-র বিভিন্ন ক্লাব

kolkata-clubs-comes-forward-to-ensure-women-safety-.png

দেশ জুড়েই মহিলা এবং শিশু নিরাপত্তাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। বাড়ছে দিনে দুপুরে তাদের শ্লীলতাহানীর ঘটনা।

কলকাতায় মহিলা নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার এগিয়ে এলো দুর্গা পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা।পুজো কমিটির সদস্যরা নিজেদের মোবাইল নাম্বার দিয়ে নিশ্চিত করছেন যে কোন সময় মহিলাদের পাশে তাঁরা থাকবেন।যে কোন সময় বিপদে পড়লেই সোশ্যাল সাইটে দেওয়া পুজো কমিটির ওই নাম্বারে ফোন করলেই বাইক নিয়ে চলে আসবেন পুজো কমিটির সদস্যরা।

হরিদেবপুরের অজয় সংহতি, সন্তোষপুর লেক পল্লী, কালীঘাটের ৬৬ পল্লী।এই সমস্ত পুজো কমিটির সদস্যরা এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের আরও আবেদন শহরের সমস্ত পুজো কমিটির সদস্যরা যদি এভাবে এগিয়ে আসে কলকাতায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে আর চিন্তার কোন কারণই থাকবে না। নতুন করে কেউ সাহস ই করবেনা মহিলাদের শ্লীলতাহানি বা ধর্ষণ এর মত জঘন্য কাজের।
হায়দ্রাবাদের প্রিয়াঙ্কার রেড্ডি। কলকাতার পঞ্চসায়র। দূরত্ব হাজার কিলোমিটারের বেশি হলেও নিরাপত্তায় দূরত্বহীন। দেশের বড় বড় শহরগুলোর রাতেরবেলা ক্রমশ মহিলাদের নিরাপত্তায় আতঙ্কের কারণ হয়ে যাচ্ছে। কলকাতা ও তার থেকে পিছিয়ে নয়।

রাতের শহরে বেশ কিছু এলাকা নির্জন থাকে। বিশেষ করে বাইপাস ও কবরডাঙ্গার মত এলাকাগুলি। প্রথমেই এমন চিন্তা ভাবনা আসে হরিদেবপুর অজেয় সংহতি পুজো উদ্যোক্তাদের মাথায়। সোশ্যাল সাইটে তাঁরা নিজেদের মোবাইল নাম্বার দিয়ে মহিলাদের পাশে থাকার আবেদন জানান।

শহরের এক পুজো কমিটিকে এভাবে এগিয়ে আসতে দেখে উদ্যোগী হয় অন্য পুজো কমিটি গুলো।সন্তোষপুর লেক পল্লী পুজো উদ্যোক্তারাও একইভাবে এগিয়ে আসেন শহরের বাইপাস সংলগ্ন এলাকা গুলির জন্য। তারাও সোশ্যাল সাইটে নিজেদের বেশকিছু ফোন নাম্বার দেন। ফোন করলেই বাইকে পৌঁছে যাবেন তারা এমন আশ্বাস দেওয়া হয়। রাসবিহারী মোড়ের কাছে শহরের অন্যতম পুজো ৬৬ পল্লী ক্লাব। তাদের সদস্যরাও সোশ্যাল সাইটে মহিলাদের পাশে থাকার আবেদন পোস্ট করেন।

টালিগঞ্জ হরিদেবপুর কবর দেওয়ার জন্য অজেয় সংহতি ক্লাবের সদস্যরা। বাইপাস অজয়নগর সন্তোষপুর ও সার্ভে পার্ক এলাকার জন্য সন্তোষপুর লেক পল্লী ক্লাব।এভাবেই একের পর এক এলাকার ক্লাব ও পুজো কমিটি গুলি যদি এগিয়ে আসে তাহলে পুরো শহরটাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপে চলে আসবে। এমনটাই মনে করেন সন্তোষপুর লেক পল্লী পুজো কমিটির সোমনাথ দাস।তাদের আবেদন শহরের দূর্গা পুজো কমিটি গুলি যদি এই উদ্যোগ নেয় তাহলে শহরের কোথাও আর মহিলার আতঙ্কিত হয়ে রাতে বেরোতে হবে না। কলকাতা শহর রাতেও মহিলাদের পক্ষে নিরাপদ দুর্গ হয়ে উঠবে।

" ইয়ং ব্রিগেড "। রাতে নির্জন রাস্তায় বিপদে পড়েছেন? বাড়ি ফেরার জন্য কোনো যানবাহন পাচ্ছেন না? গা ছমছম করছে? কী করবেন, ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না? এবার শহরের মহিলাদের জন্য মুশকিল আসান ইয়ং ব্রিগেড। না.কোন সিনেমার কাহিনী নয়, একেবারে বাস্তব উদ্যোগ । .

গত বৃহস্পতিবার হায়দ্রাবাদের তরুণীকে গণধর্ষণ করার পর খুনের ঘটনা নাড়া দিয়েছে গোটা দেশকে ব্যতিক্রম নয় কলকাতাও। এবার শহরের মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে এলো হরিদেবপুর এর একটি ক্লাব অজেয় সংহতি। বিপদে পড়লে যাতে কলকাতার কোন নাগরিক কে হায়দ্রাবাদের ঘটনার সম্মুখীন না হতে হয় সেই কথা মাথায় রেখেই ইয়ং ব্রিগেডের আত্মপ্রকাশ। রীতিমতো সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রুপ করে ক্লাবের সদস্যরা রাস্তায় বেরিয়ে বিপদে পড়া মহিলাদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত। রাত বেড়েছে, শুনশান রাস্তা সরকারি কিংবা বেসরকারি বাসের দেখা নেই অ্যাপ ক্যাব অমিল নির্জন রাস্তায় একাকী বিপদের আশঙ্কা থাকতেই পারে। আর সেই আশঙ্কা থেকেই ক্লাবের তরুণ সদস্যদের ব্যতিক্রমী ভাবনা। সদস্যদের বেশকিছু মোবাইল নাম্বার ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়া হয়েছে । তৈরি করা হয়েছে ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। যেকোনো ধরনের বিপদের হাত থেকে মহিলাদের রক্ষা করার রক্ষাকবচ হিসেবেই কাজ করবেন এই সমাজ বন্ধুরা। নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে এক ফোন করলেই ওরা বাইক কিম্বা গাড়ি নিয়ে পৌঁছে যাবে গন্তব্যে। আপনাকে নিরাপদে পৌঁছে দেবে বাড়িতে। না, এর জন্য কোন টাকা পয়সা নয়, একজন সহ নাগরিকের বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানো স্রেফ সমাজের বন্ধু হিসেবে। এক নজিরবিহীন ভালোবাসার বন্ধনে সত্যি সিটি অফ জয় আজ যেন মিলেমিশে একাকার। যেখানে মানবিকতা যেন হাতে হাত রেখে কথা বলে," পাশে আছি, সাথে আছি, ভয় পেয়ো না '।

শহরের পথে ঘাটে মাঝেমধ্যেই মহিলাদের নানান নিগ্রহের ঘটনা উঠে আসে শিরোনামে। তাই এক ফোনেই গন্তব্যে পৌঁছে গিয়ে মহিলাদের পাশে দাঁড়ানো সীমাবদ্ধ থাক শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের জন্য তা চান না দক্ষিণ কলকাতার অজেয় সংহতি ক্লাবের সদস্যরা। তারা চান, পাড়ায় পাড়ায় এই ধরনের ইয়ং ব্রিগেড গড়ে উঠুক। তাহলেই রাতের শহরে মহিলাদের সুরক্ষার বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে। ভরসা পাবে নারী সমাজ।

Mon 2 Dec 2019 12:32 IST | ওয়েব ডেস্ক