সাগরতলে মিউজিয়াম, জলমগ্ন প্রাচীন ইতিহাস

dive-into-history-greeces-first-underwater-museum-opens-ancient-world-to-tourists

ছেলেবেলা থেকেই সুবোধ স্বপ্ন দেখে দেশ বিদেশ ভ্রমণের। তখন সে অনেকটাই ছোট বাবার সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে। বাবার চোখ বন্ধ। বাবাকে ঘরের ভেতরে রেখে, সুবোধ এক দৌঁড়ে বাইরে বেরিয়ে গিয়ে দরজার ফাঁকে লুকিয়ে পড়লো। বাবা হাত বাড়িয়ে ছেলেকে খুঁজতে খুঁজতে জোরে জোরে বললেন—'থাকব না কো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে'। সুবোধ দৌড়ে বাবার কাছে এসে জানতে চাইল বাবা কি বলছো তুমি? বাবা তখন ওকে নজরুল ইসলামের কবিতাটা শুনিয়েছিলেন। তারপর থেকেই সুবোধ প্রায় কবিতাটা মুখস্থ করে ফেলেছিল। আনমনা হয়েও বলতে থাকত—কেমন করে বীর ডুবুরী সিন্ধু সেঁচে মুক্তা আনে। সুবোধের ইচ্ছা বড়ো হয়ে ও ডুবুরি হবে। দেশ-বিদেশের সমুদ্রের তলায় পাড়ি দেবে। আমাদের চারপাশে ছড়িযে আছে এমন অনেক সুবোধ। যারা ছেলেবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখে অজানাকে জানবার, অচেনাকে চিনবার। 

greeces-first-underwater-museum-opens-ancient-world-to-dive-tourists
সাগরের তলদেশে এ জগতে ঘুরে আসতে বাড়তি অর্থ গুনতে হবে দর্শনার্থীদের।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে এমন অনেক বিস্ময়কর জায়গা। যেখানে ছুটে যেতে চায় ভ্রমণ পিপাসু মানুষ। এমনই এক রহস্যেমোড়া দ্বীপ অ্যালোনিসোস। তারই স্বচ্ছ নীলাভ জলরাশির নীচেই ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে তৈরী হয়েছে আস্ত এক মিউজিয়াম।  
জমজমাট জাদুঘর এই প্রথম গ্রিসে সাগরের জলের নীচে.  এখানে  রয়েছে ডুবে যাওয়া জাহাজের ধ্বংসাবশেষ। ২ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো মদের পিপে। যত্নের সঙ্গে সব সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আর এসব দেখতে ভিড় করছেন ভ্রমণ পিপাসু মানুষ। মুখে অক্সিজেন মাস্ক, পরনে ডুবুরির পোশাক পরে মাঝ সমুদ্রে ডুব দিয়ে জলের তলার সংসার দেখতে উৎসুক মানুষ  উৎসাহ প্রবল। 
গত বছরই আনুষ্ঠানিক ভাবে জাদুঘরটি চালু করা হলেও করোনার কারণে বন্ধ ছিল। এবছর অবশেষে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হল এই জাদুঘরের দরজা।

greeces-first-underwater-museum-opens-ancient-world-to-dive-tourists.jpg
জল-জাদুঘরে ঘুরে বেড়ানোর সময় দর্শনার্থীদের সাহায্য করার জন্য থাকবেন পেশাদার গাইড। সঙ্গে থাকবেন একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ।

জলের নীচের আয়োজন দেখে মুগ্ধ এক দর্শনার্থীর জানিয়েছেন, এটি এক বিশেষ ও অনন্য ধাঁচের মিউজিয়াম। ডাইভিং ও প্রত্নতত্ত্বের অপূর্ব সমন্বয়। মনে হবে, যেন ইতিহাসে ডুব দেওয়া হল। তবে সাগরের তলদেশে এ জগতে ঘুরে আসতে খরচ পড়বে একটু বেশি। সেখানে যেতে গেলে দিতে হবে ৯৫ ইউরো বা ১১০ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে আট হাজার টাকা। সাধারণ স্কুবা ডাইভিংয়ের চেয়ে এ ব্যয় অনেকটাই বেশি। এই জল-জাদুঘরে ঘুরে বেড়ানোর সময় দর্শনার্থীদের সাহায্য করার জন্য থাকবেন পেশাদার গাইড। সঙ্গে থাকবেন একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ। তিনি সাগর ও সাগরে অভিযানসংক্রান্ত নানা প্রাচীন জিনিসের সঙ্গে দর্শনার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন।

করোনায় গ্রিসের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। সমাধানে পর্যটনের উপরই বিশেষ নজর দিয়েছে দেশটি। জলের নীচের এই জাদুঘর পর্যটকদের নজর কাড়বে বলেই আশা দেশটির।গ্রিসের পর্যটনমন্ত্রী হ্যারি থিওহ্যারিস বলেন, ব্যতিক্রমী এ জাদুঘরের মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে দেশি–বিদেশি দর্শনার্থী টানতে গত বছরই আইন পাস করে বিশেষ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে বছরজুড়ে এসব পর্যটনকেন্দ্র মানুষের পদচারণে ভরপুর থাকবে।
  

Wed 28 Jul 2021 11:26 IST | আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক