দোভাল-ওয়াং-এর ভিডিও বৈঠকে শান্তি ফেরানোর সঙ্কেত, এশিয়া প্যাসিফিকে মার্কিন বাড়াবাড়ি অনাকাঙ্খিত

ajit-doval-speaks-to-chinese-foreign-minister-both-agree-to-expedite-disengagement

সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে চীনও ভারত। ভারতের মুখ্য নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল-এর সঙ্গে এ ব্যাপারে রবিবার চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র এক প্রস্থ আলোচনা হয়েছে, ভিডিওকলে। বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে, আন্তরিকভাবে দুজন কথাবার্তা বলেছেন। উভয়েই ঠিক করেছেন শান্তি প্রক্রিয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। 

গালোয়ান উপত্যকায় সঙ্ঘর্ষের পর এই প্রথম উচ্চপর্যায়ে দুদেশ কথা বলল। দোভাল করিতকর্মা ব্যক্তি। বাস্তববাদী। চিন-এর বিদেশমন্ত্রী ওয়াং প্রভাবশালী নেতা। কমিউনিস্টপার্টির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কর্মঠ এবং বিদেশনীতির নির্মাণে তাঁর দক্ষতা প্রশ্নাতীত। দুই নেতার ইতিবাচক আলোচনা সৌহার্দ্যের শান্তি বাস্তবতায় নতুন ইঙ্গিত বলে ভাবা হচ্ছে। 

ভারত সীমান্তের উত্তেজনাকে ঘিরে চিন ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়। করোনা সঙ্কটের মুহূর্তে যুদ্ধের হুমকি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া আরেক সঙ্কট হয়ে উঠতে পারে, প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় মার্কিন উপস্থিতি পরিস্থিতিকে জটিল করে দেবে। চিনের বাণিজ্য বাজার থমকে যাবে। একথা বেইজিং বুঝতে পারছে। ভারতও ওয়াকেবহাল যে, তাকে ওয়াশিংটন ব্যবহার করতে চাইছে। ওয়াশিংটনের মতলবকে আমল দিতে নয়াদিল্লি আগ্রহী নয়। এ কারণে সে আমেরিকার অন্যতম জাতশত্রু রাশিয়ার সঙ্গে তার ৭০ বছরের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নতুন করে ছালিয়ে নিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সাম্প্রতিক সফরে। মুখে চিন-ভারত গরম গরম আওয়াজ দিয়েছে বটে, কিন্তু দুদেশই এই মুহূর্তে সশস্ত্র কলহ চাইছে না। ভারত তার ক্ষমতাও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন। চিনও রাশিয়া আর ভারতে তার বৃহৎ বাজার হারাতে চায় না। রাজনাথের লাদাখ সফরে যাবার কথা ছিল। যান নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গেলেন সীমান্ত পরিদর্শনে। তাঁর এই সফরের পর বরফ গলতে থাকে। দুপক্ষই সীমান্তে সেনাসমাবেশে রাশ টানছে।
সেনাকর্তাদের ১ জুলাই এর বৈঠকের সম্মতি প্রকাশ করা হয় যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকে দুদেশ খেয়াল রাখবে। প্রধানমন্ত্রী তার বেশ কয়েকটি ভাষণে ভারতের সার্বভৌমিক আত্মনির্ভরতার চিত্র তুলে ধরেছেন। কিন্তু চিনকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করেন নি। 

পশ্চিম এশিয়া, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার ক্ষমতামত্ততাকে কেন্দ্র করে চিন ও রাশিয়া যত কাছাকাছি আসছে, ততই দক্ষিণ-পূর্ব শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা শুরু হয়েছে। এরকম অবস্থায় ভারত-চিনের উত্তজনা অনাকাঙ্খিত। ভেতর-বাইরের উসকানি অতিক্রম করে শক্তিধর প্রতিবেশী দুই দেশই হাঁটতে চায় শান্তির পথে। ডোবাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং-এর ভিডিও আলোচনা এ ক্ষেত্রে অতি অবশ্যই খুবই বাস্তবসম্মত সঙ্কেত।   

Mon 6 Jul 2020 17:02 IST | ওয়েব ডেস্ক