৪০ এর জল এখন সেঞ্চুরি পার

corrupt-businessmen-taking-advantage-of-amphan

 বিধ্বংসী  আমফানের ধ্বংসলীলায় কাবু বাংলা। এই বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে বাংলাকে আশ্বস্ত করল কেন্দ্র। কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ প্রয়াসে ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সহ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও রাজ্যপাল ধনকড়। একদিকে এই চিত্র ঠিক অন্যদিকে বিপর্যয়ের দিনে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে নেমে পড়েছে একদল অসাধু ব্যবসায়ী। বাংলায় মানবিক মুখগুলোকে হারিয়ে দিয়ে প্রায়ই মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে অসাধু অমানবিক মুখ। তাদের বিরাট মুখের হা, মুনাফা লুটতে অভ্যস্ত এই অসাধু ব্যবসায়ীরা।  হজম করে মানবিকতা। 

এই দুর্দিনে কোনও রকম ধার না ধরে বিদ্যুৎ জল হীন নাগরিকদের কাছে চড়া দামে জেনারেটর ভাড়া দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ২০ লিটার জলের দাম খুব বেশি হলে ৫০ টাকা হয়। এখন তা  ১০০ টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না ।

বুধবার দুপুর থেকে কলকাতার বুক দিয়ে যে ঝড় বইয়েছে শুক্রবারও তার ধ্বংসাবশেষ একই রকম ভাবেই রয়ে গেছে শহরের সর্বত্র।  গাছ ভেঙে রাস্তা বন্ধ যেন খুব স্বাভাবিক ঘটনা। তার সঙ্গে নেই বিদ্যুৎ। স্বাভাবিকভাবেই জল নেই বাড়িতে। কার্যত বন্ধ মোবাইল পরিষেবা।

এই দুর্বিষহ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ব্যবসা করতে নেমে পড়েছে কিছু মানুষ। কলকাতার কয়েকটা অঞ্চলে খোঁজ পাওয়া গেল এ রকমই অমানবিক ঘটনার। বুধবার আমফান কলকাতায় প্রবেশ করার সময় থেকেই বিদ্যুৎ বন্ধ এলাকায়। তার ওপর হাসপাতালের সামনে দুটি গাছ পড়েছে। বৈদ্যুতিক তারের ওপর গাছ দুটি পড়ে প্রায় উপড়ে ফেলেছে লাইট পোস্টগুলো। অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে ঝুলে রয়েছে তারগুলো। দুদিনেও দেখা মেলেনি পুরসভার বা সিইএসসির কোনও লোকের। এলাকায় রয়েছে বেশ কিছু বহুতল। পুরসভার জলের সরবরাহ চালু থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় জল রিজার্ভার থেকে ট্যাঙ্কে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার সকালটা কোনও রকমে কাটলেও বেলার দিকে জলের ঘাটতি পড়ে সবার। তখন জেনারেটর ভাড়া করে মটর চালিয়ে জল তোলার পরিকল্পনা করা হয় পাড়া থেকে। কিন্তু জেনারেটরের ভাড়া শুনে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয় ওখানকার বাসিন্দাদের। প্রতি ঘন্টায় কোথাও ৪০০ আবার কোথাও ৭০০ টাকা দাবি করা হয়। অর্থাৎ একটা বাড়িতে যদি এক ঘণ্টা সময় লাগে তাহলে তাদের ওই টাকা দিতে হবে। কোনও উপায় না দেখে তাতেই রাজি হচ্ছেন এলাকাবাসিরা। স্থানীয় বাসিন্দারা বললেন, 'আমাদের কোনও উপায় নেই। বাড়িতে অনেক বয়স্ক মানুষ রয়েছেন বাচ্চারা রয়েছে। একে বিদ্যুৎ নেই তার ওপর যদি জল না থাকে তাহলে জীবনটাই থেমে যাবে। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের এই টাকা গুনতে হচ্ছে।'

 

Fri 22 May 2020 18:11 IST | ওয়েব ডেস্ক