ওরা আলাপনকে সরাতে চায় কেন?

বিতর্ক বাংলার সমাজ আর রাজনীতিকে রেহাই দেবে না বুঝি! কেন্দ্রের আরোপিত সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে ক্রমশ জটিল করে তুলছে। যে-ভাবে কেন্দ্রীয় শাসকরা রাজ্যকে চাপে রাখতে চাইছেন, যে কোনও অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে সরাসরি লঙ্খন করছেন, তা অসন্তোষও বাড়িয়ে তুলছে নিরন্তর। কেন্দ্রের তুঘলকিপনার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লি নিয়ে যাবার অপরিণামদর্শী, আচমকা তৎপরতা। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দাবি মেনে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়িয়ে দেয় দিল্লি। কিন্তু তিনদিনের মধ্যে তাঁকে দিল্লিতে ভিন্নতর দায়িত্ব দেবার সিদ্ধান্ত থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে, আলাপনকে রাজ্যের প্রশাসন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়াটাই দিল্লির এই মুহূর্তের অন্যতম লক্ষ্য। 

আলাপন নিষ্ঠাময়, পরিশ্রমী, সংবেদনশীল প্রশাসক। ৮ দফার বিধানসভা ভোটে, ভোটের পরে, দুই পর্যায়ের কোবিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী আর মুখ্যসচিবের সুরচিত পরিকল্পনা একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রীর সদর্থক কর্মকান্ডের রূপকার হিসেবে নিজেকে স্থাপিত করেছেন বহুমাত্রিক মুখ্যসচিব। কেবল প্রশাসনিক দক্ষতা বিস্তার করে সম্ভব নয় তা। এ জন্য জরুরি বোধ, বুদ্ধি ও বিবেকের প্রশ্নহীন সংযুক্তি। এ ক্ষেত্রে আলাপন এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। কোভিড-এর দ্বিতীয় হামলার প্রতিরোধ, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তান্ডবের সঙ্গে সঙ্গে ত্রাণ ও পুর্নগঠনের বিজ্ঞান সম্মত, সর্বমুখী কৌশল তৈরিতে মর্মময় সহযোগীর ভূমিকা থেকে মুখ্যসচিবকে আলাদা করতে চাইছে কেন্দ্র। তাই তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে যাবার হঠাৎ সিদ্ধান্ত  তৈরি হয়েছে । বাংলার সামাজিক দৃঢ়তার বিরুদ্ধে এও আরেক ধরণের দিকভ্রষ্ট উৎপাত। বাংলা একে রুখবে। হৃদমাঝারে রাখবে প্রিয় মুখ্যসচিবকে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত অঘোষিত, অঙ্গীকার আর সঙ্কল্পের মধ্যে নেই কোনও দূরত্ব রেখা। এই দুই সূক্ষ্ণতার অবস্থানকে চওড়া করেই তাঁর ভ্রাতৃপ্রতিম মুখ্যসচিবকে কাছে রাখতে চাইবেন। রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসকেরই এটি শুধু প্রয়োজনের আয়োজন নয়, আয়োজনের অংশীদার সবস্তরের সব মানুষ। 

Sat 29 May 2021 14:22 IST | বাহার উদ্দিন