ধা | রা | বা | হি | ক: লঙ্কাগড়ের লঙ্কাকান্ড। পর্ব ১৫।

রাণী শিরোমণির সময় কর্ণগড়ে ইংরাজদের সঙ্গে মেদিনীপুরের অসংগঠিত চুঁয়াড়দের মস্ত যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ব্রিটিশরা জয়ী হবার পর রাণীকে বন্দি করে ও কর্ণগড়ের প্রাসাদ ধ্বংস করে দেয়। লোকমুখে শোনা যায় সেই ভয়ানক যুদ্ধের ঠিক একদিন আগে রাণী প্রাসাদের সমস্ত মণিমানিক্য তিন সিন্দুকে পুরে নাড়াজোলে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে সেই মণিমানিক্য কোথায় গেল কেউ জানে না...

dharabahik-part-15-lankagorer-lonka-kando-illastration-td-sarkar

অলঙ্করণ- দেব সরকার

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বাংলার নাড়াজোল রাজবংশ। সেই রাজবাড়ির পরিখায় তরবারি হাতে পাহাড়া দিতেন স্বয়ং দেবী জয়দুর্গা। জনশ্রুতি  তাঁর অসির জ্যোতিতে অত্যাচারি ইংরেজরা চোখ ঢাকত। বর্গীরাও এই জনপদের ধারেকাছে ঘেঁষতে পারতো না। সেই দেবী জয়দুর্গার অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে এই ধারাবাহিক...

 

| শুদ্ধেন্দু চক্রবর্তী| 

 •১৫•

রাসমঞ্চের মাঝে বসে মুখ লুকিয়ে কাঁদছে চন্দন। সুনন্দা দিদির মতো অন্য অনেকেই অবাক হলেও রঙ্গীল কিন্তু অবাক হয়নি এতোটুকু। সেটুকু লক্ষ্য করে বাপি বলল,"তুই কি এটা আন্দাজ করেছিলিস?"উত্তরে রঙ্গীল ঘাড় নেড়ে বলে,"খানিকটা তো সন্দেহ ছিলই।প্রথমদিন থেকেই তো আমি বলে আসছি যে ওই চিঠিগুলো দিচ্ছে সে রাজবাড়ির বন্ধু।"

– বেশ। তারপর?

– তারপরেরটা চন্দন বলুক। আমি জানি গোপালকাকু, অবনীকাকু আর পুরোহিতমশাই ছাড়া ওই মূর্তি চুরির সুযোগ যার ছিল, সে হলো চন্দন। আর চন্দনের কাছে একটা মূর্তিচুরির কারণও ছিল।
চন্দন এবার দু চোখ মুছে মাথা তুলে বিস্মিত তাকিয়ে রইল ওদের দিকে।সুনন্দাদিদি  রঙ্গীলের কথা শুনে চমকে উঠলো।

– কী বলছো রঙ্গীল।চন্দন আর গোপাল কতো পুরুষ ধরে রাজবাড়ির নিমক খেয়েছে।তারপরও এতো বড় বিশ্বাসঘাতকতা!

উত্তরে রঙ্গীল বলে,"রেগে যেও না দিদি। তুমি যা ভাবছো তা নয়।চন্দন আসলে তোমাদের সাহায্য করতেই এইসব করেছে। এটা আমি আগেই আন্দাজ করেছি প্রথম চিঠি থেকেই। 'কোথা ঊমাধন' এই ঊমা যদি স্বয়ং "জয়দুর্গা" হন,তাহলে অমূল্যজ্যেঠু হলেন সেই ঊমাধন। বাকিটা ও নিজেই বলুক।

চন্দন এবার চোখ মুছে রঙ্গীলের দিকে তাকায়। তার সে চাহনিতে একঝলক রাগ ফুটে উঠেই মিলিয়ে গেল। সুনন্দাদিদি এবার ওর দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলে,"বল চন্দন। সব বল। চুপ করে থাকলে কিন্তু তোকে পুলিশে দেব। বল। "অগত্যা বলতে থাকে চন্দন। কখনও তার চোখে অভিমান ফুটে ওঠে,কখনও যন্ত্রণা,কখনও বা অসহায়তা। চন্দন যা বলল তা এইরকম।

lankagorer-lonka-kando-illastration-td-sarkar

একদিন নাড়াজোলে এসে উপস্থিত হয় এক অদ্ভুত লোক। লোকটা বেশ রহস্যজনক। সারাদিন ঝোলা নিয়ে নাড়াজোলের অলিতেগলিতে ঘুরে বেড়ায়। চোখে কালো চশমা।ঝাঁকড়া চুল। মোবাইল বের করে ছবি তুলতে থাকে এদিকওদিক। সবাই বলে লোকটা নাকি গবেষক

চন্দন নাড়াজোল গ্রামের স্কুলের ফার্স্ট বয় ছিল। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা তাকে খুবই ভালোবাসতো। কেউকেউ চন্দনের উদাহরণ দিত অন্য ছাত্রছাত্রীদের। এরই মধ্যে হঠাৎ দেশ জুড়ে মড়ক লেগে গেল। বন্ধ হয়ে গেল স্কুল। একদিন নয় দুদিন নয়। মাসের পর মাস। বছরের পর বছর। চন্দন প্রথম প্রথম নিজেনিজে পড়ার চেষ্টা করতো। তারপর সবকিছু কেমন একঘেয়ে হয়ে গেল তার জীবনে। এক বই বারবার পড়তে কারই বা ভালো লাগে। কিন্তু সারাদিন চন্দন কীই করবে। মাঝেমাঝে সে শুনতে পেত তার স্কুলের পুরনো বন্ধুদের কেউকেউ,যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো তারা ক্লাস করছে ট্যাবে মোবাইলে। কিন্তু চন্দনের বাবা তো গরীব। রাজবাড়ির উপর তার কতো ঋণ। চন্দনের মা নেই। ছেলেবেলাতেই জনডিস হয়ে মারা যান। একাএকা সারাদিন নাড়াজোলের পথেঘাটে ঘুরতে থাকে সে।যেতেযেতে একদিন চিত্রকর পাড়ার নূরচাচার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গেল তার। পড়াশোনার পাশাপাশি রঙতুলিতে অপূর্ব ছবি আঁকতে পারতো সে। নূরচাচা ভারি মজার মানুষ। সারাদিন পটে ছবি আঁকেন। আর তাদের গল্প শোনান। কখনও রামরাবণের গল্প,কখনও কেশপুরের গাজীপীরের গল্প। কখনও আবার নাড়াজোলের রাজবাড়ির গল্প। এইভাবেই একদিন নূরচাচা চন্দনকে নাড়াজোল রাজবাড়ির নীচে হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধনের কথা বলে। অনেক বছর আগে রাণী শিরোমণির সময় কর্ণগড়ে ইংরাজদের সঙ্গে মেদিনীপুরের অসংগঠিত চুঁয়াড়দের মস্ত যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ব্রিটিশরা জয়ী হবার পর রাণীকে বন্দি করে ও কর্ণগড়ের প্রাসাদ ধ্বংস করে দেয়। রাণী শিরোমণি নাড়াজোলের রাজা আনন্দলাল খানকে পুত্রবৎ স্নেহ করতেন। লোকমুখে শোনা যায় সেই ভয়ানক যুদ্ধের ঠিক একদিন আগে রাণী প্রাসাদের সমস্ত মণিমানিক্য তিন সিন্দুকে পুরে নাড়াজোলে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে রাণীকে ইংরাজদের সঙ্গে মধ্যস্থতা করে ছাড়িয়ে আনেন আনন্দলাল। কিন্তু সেই মণিমানিক্য কোথায় গেল কেউ জানে না। এরই মধ্যে একদিন রাজা নরেন্দ্রলাল খান একদিন ইব্রাহিম নূরের এক পূর্বপুরুষকে বলে যান সেই গুপ্তধনের কথা। তাঁর ইচ্ছে ছিল নাড়াজোলের লোককথায় সেই গুপ্তধনের পথনির্দেশ যেন সাংকেতিকভাবে লুকিয়ে থাকে। কিন্তু রাজার কঠোর নির্দেশ ছিল এই গোপন সত্য যেন তাদের বংশ ছাড়া আর কেউ জানতে না পারে।রাজার মনের ভিতর হয়তো ইচ্ছে ছিল কোনও একদিন রাজপরিবারের মেধাবী কোনও উত্তরসূরি বের করে নেবে সেই সূত্র। সেইই হবে সেই গুপ্তধনের সুযোগ্য উত্তরাধিকার।

নূরচাচার কাছে নাড়াজলের পালাগান,লোকগান আর পদাবলী শিখতে থাকে চন্দন। এরই মধ্যে একদিন নাড়াজোলে এসে উপস্থিত হয় এক অদ্ভুত লোক। লোকটা বেশ রহস্যজনক। সারাদিন ঝোলা নিয়ে নাড়াজোলের অলিতেগলিতে ঘুরে বেড়ায়। চোখে কালো চশমা।ঝাঁকড়া চুল। মোবাইল বের করে ছবি তুলতে থাকে এদিকওদিক। সবাই বলে লোকটা নাকি গবেষক। নাড়াজোলের উপর গবেষণা করছে। একদিন সে ইব্রাহিম নূরচাচার কাছে এসেছিল। লোকটাকে চন্দনের একদম ভালো লাগলো না। নূরচাচা তাকে ঘরের বাইরে যেতে বলল। তারপর কিছুক্ষণ কথোপকথন চলতে থাকলো দুজনের। চন্দন তখন নূরচাচার নাতি মিজানের সঙ্গে দাওয়ায় খেলছিল। হঠাৎ ঘরের ভিতর থেকে তীব্র চিৎকার ভিসে এল। নূরচাচাকে সেই একদিনই রেগে যেতে দেখেছিল চন্দন। লোকটা গজগজ করতে করতে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। এই ঘটনার পর থেকে নাড়াজোলজুড়ে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে লাগলো। মাঝরাতে রাজবাড়ির চারদিকে কারা যেন টর্চ জ্বালিয়ে কী খোঁজে! একদিন সন্ধ্যায় ঘরে ফিরতে গিয়ে চন্দন থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। চন্দনদের বাড়িতে ইলেকট্রিক লাইন নেই। ঘরের ভিতর হারিকেনের আলোয় সে দেখলো তার বাবা ছাড়াও আরও তিনজন বসে। একজন অবনীকাকু,আর একজন রামতনু কাহার। রামতনু কাহারকে চন্দন চিনতো কারণ একবার স্কুলে অঙ্কন প্রতিযোগিতায় সে প্রথম হয়েছিল। সেইবার তাদের পুরস্কার দিয়েছিল ওই লোকটাই। ঘরের ভিতর চতুর্থ ব্যক্তি সেই অদ্ভুত লোকটা। মুখে দাড়ি। আর ডান হাতের পাঞ্জায় শিবের ত্রিশুল আঁকা উল্কি। এই লোকটাকেই নূরচাচা তার ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। মৃদু গুঞ্জন চলতে থাকে ঘরে। সেই অদ্ভুত লোকটা এইবার তার সঙ্গে থাকা কালো চামড়ার ব্যাগ থেকে মোটা মোটা টাকার বান্ডিল বের করে বাকি তিনজনের হাতে তুলে দেয়। মৃদু মৃদু ভেসে আসে কয়েকটা কথা। "গুপ্তধন","লঙ্কাগড়ের জলহরি","জয়দুর্গা মূর্তি","সূর্যগ্রহণ" আর "খালাস"। খালাস?তবে কি বাবাও কোনও খারাপচক্রে জড়িয়ে পড়লো। কাকে খালাস করার কথা ভাবছে ওরা। এখুনি তো এই খবর বড়রাজামশাইকে জানানো দরকার। ভাবতে ভাবতেই চন্দন পিছন ফিরে দেখে তার পিঠের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে একটা লোক। তার সমস্ত শরীর শালের আড়ালে ঢাকা। চন্দন চেঁচিয়ে উঠতে যাবে,লোকটা ফিসফিস করে বলল,"শব্দ করো না। তুমি যেমন রাজবাড়ির বন্ধু,আমিও ঠিক তাই। "তুমি কে?"আমি রাজুভাই। ভয় পেও না। আমি তোমারও বন্ধু। আমি ওদের মজা দেখাবো। কিন্তু তার জন্য তোমাকে আমায় সাহায্য করতেই হবে।"এরই মধ্যে ঘরের মিটিং ভেঙে যায়। ঘাড় ঘুরিয়ে চন্দন দেখে রাজুভাই যেমন নিঃশব্দে এসেছিল,ঠিক তেমনই নিঃশব্দে অদৃশ্য হয়ে গেছে।
এতোটা বলে চন্দন হাঁপাতে থাকে। চন্দনের গল্প শুনতে শুনতে সকলেই রোমাঞ্চিত হয়ে ওঠে। তাহলে সত্যিই নাড়াজোলের মাটির নীচে গুপ্তধন আছে। রঙ্গীল বলে এইবার।

– তাহলে চিঠিগুলো তুমিই লিখেছিলে চন্দন?

– হ্যাঁ। সেদিনকার পর রাজুভাইকে আর দেখতে পাইনি। এদিকে বেশ বুঝতে পারছিলাম নাড়াজোলের বুকে গভীর একটা ষড়যন্ত হচ্ছে। তাই মনে হলো বড়রাজামশাইকে জানাই। এদিকে রাজবাড়ির চারদিকে কড়া নজর। অবনীকাকু,বাবা,রামতনু কাকা,সবাই তো জড়িয়ে। তাই ভাবলাম ধাঁধাঁ করে লিখি। যে বুদ্ধিমান সে ঠিক বুঝবে। আমার এই কাজে সাহায্য করলো নূরচাচা।

– বেশ। তাহলে প্রথম দিন আমাকে দেখেই হঠাৎ অমন তেড়ে এলে কেন?
রঙ্গীলের প্রশ্নে চন্দনের চোখেমুখে আবার ব্যথা ফুটে উঠলো।

– বাবরশাহ রহস্যর কথা এখানে সবাই জানে। বলাবলি করে। তোমরা হলে শহরের ছেলে। কতো সুযোগ সুবিধে। ট্যাব মোবাইল । স্কুল বন্ধ হলে তোমাদের আর কি? ভালোই তো। দিব্বি বেড়াতে আসো গ্রামে । আর আমাদের দেখো । পড়তে চাই,পড়তে পারি না । তোমরা সব কেড়ে নিয়েছো ।স্কুল বন্ধ করে দিয়েছো । কেন এমন করলে?আমি তো পড়তেই চাই...
চন্দন হাপুসনয়নে কাঁদতে থাকে। সুনন্দাদিদির সমস্ত রাগ ততোক্ষণে ধুয়ে গেছে মমতায়। সে চন্দনকে জড়িয়ে তার মাথায় বিলি কেটে দেয় । তারপর বলে।

– আমাকে দিদি বলিস । আমাকে একবার বলতে পারলি না সে কথা? আজ থেকে তোর সমস্ত পড়ার দায়িত্ব আমার । তুই আজ থেকে আমার কাছেই থাকবি ।
সে তো নাহয় হলো । কিন্তু রহস্যর অর্ধেকটাই তো এখনও সমাধান করা বাকি ।"একশো তিপ্পান্ন" সংখ্যা টার রহস্য কি?

– ওটা তোমার জন্য একটা হেঁয়ালি রেখেছিলাম বন্ধু । এই কদিনে তোমার সঙ্গে টক্কর দিতে আমার বেশ লেগেছে । যদি তুমি শহরের ছেলে না হতে,তাহলে তোমার সঙ্গে আমার দিব্বি বন্ধুত্ব হতে পারতো রঙ্গীল।

– সে তো এখনও হতে পারে চন্দন ।বলো ।

– একশো তিপ্পান্নকে ভাঙলে কোন কোন গুণিতক মিলবে বলো দেখি ভায়া?
রঙ্গীল ভাবে ।একশো তিপ্পান্ন মানে তো সতেরো ইনটু নয় ।

– বেশ ।এবার বলো তো রাসমঞ্চের চুড়া সংখ্যা কতো?
রঙ্গীল ভেবে বলে,"জানি ।সুনন্দাদিদি আমাদের বলেছে ।সতেরোটি চূড়া আছে এই মঞ্চে । কিন্তু বাকিটা । নয় এলো কী করে?"

– দাঁড়াও বন্ধু । নয় । দোলমঞ্চ নবরত্ন পদ্ধতি। এই "একশো তিপ্পান্ন" আসলে রাসমঞ্চ আর দোলমঞ্চে মথুরামোহন মিস্ত্রির লুকিয়ে রাখা সূত্র রয়েছে।
সুনন্দাদিদির এবার অবাক হবার পালা। নাড়াজোল সম্পর্কে এতোকিছু জানে ছেলেটা! চন্দন বলে চলে।

– একশো তিপ্পান্ন হলো 'এক পাঁচ আর তিন'। এইবার "এক পাঁচ তিন" যোগ করলে হয় নয়। অর্থাৎ নবরত্ন দোলমঞ্চ। আর পাঁচ তিন যোগ করলে আট। এদিকে রাসমঞ্চের সতেরো চূড়া যোগ করলেও আট। এই সংখ্যাটা নূরচাচা বংশানুক্রমে পেয়ে এসেছে তার পূর্বপুরুষের কাছ থেকে। তার মানে এটাই যে দোলমঞ্চর এক,পাঁচ এবং তিন নম্বর দরজা আর রাসমঞ্চের পাঁচ ও তিন নম্বর দরজার উপর মথুরামোহন এমন কোনও সূত্র রেখে গেছেন যা আমাদের গুপ্তধনের আরও নিকটে পৌঁছে দেবে।
বিস্মিত রঙ্গীল পিঠ চাপড়ে দেয় চন্দনের।

– সাবাশ চন্দন।

– তোমাকেও সাবাশ রঙ্গীল। সামন্ত্যক মণির কথা তুমি ধরে ফেলতে পারবে আমি ভাবিনি। তোমার সম্বন্ধে যাযা কথা শোনা যায় চারপাশে তা যে বাড়িয়ে বলা নয় এখন বুঝতে পারছি।

– চলো তাহলে সংকেতগুলো পড়ে ফেলা যাক।
সকলে মিলে দোলমঞ্চর দিকে এগিয়ে যেতেই পাশের বাঁশঝাড়টা আলতো নড়ে উঠলো। কুকুর শিয়াল কিছু কি?সকলে সচকিত হয়ে উঠলো। চন্দন ফিসফিস করে বলল।

– আপনাদের সকলকে বলে রাখি। সকলে কিন্তু খুব সাবধানে থাকবেন। ওরা রাজুভাইকে মেরে ফেলেছে। ওরা কিন্তু খুব সাঙ্ঘাতিক লোক।

– একটা কথা তোমাকে এইবার সাহস করে বলি চন্দন?

– বলো ।
যেন দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কথাবার্তা হচ্ছে । কে বলবে এরা দুজনেই ক্লাস ফাইভে পড়ে । সকলকে অবাক করে রঙ্গীল এবার সরাসরি বলে।

– জয়দুর্গা মূর্তিটা তুমি ফিরিয়ে দাও চন্দন। ওতে তোমার ও রাজবাড়ির ক্ষতি হবে।আমার মন বলছে।

– কিন্তু মন্দিরে মূর্তি নিরাপদ নয় একদম। ওরা চুরি করে নেবে। সেই কারণে ওটা আমি সরিয়ে রেখেছি।
সুনন্দাদিদি এইবার বলে।

– তুমি চিন্তা করো না চন্দন। আমি মন্দিরে নিরাপত্তা বাড়াতে বলছি বাবাকে।

– আর দিদি । আমি এইসব বলেছি বাবা বা অবনীকাকুকে বলো না । ওরা যেন জানতে না পারে তোমরা সব জানো। তাহলে বাবা আমাকে খুব মারবে।

– বেশ । আমি কথা দিচ্ছি । কেউ জানবে না। চলো। এইবার সংকেতগুলো খুঁজে ফেলি আমরা। বেলা বাড়ছে । রথ বের হবার সময় হয়ে গেল। এইসময়ে রাজবাড়িতে আমাদের ফিরে যাওয়া দরকার।
সকলে ধীরে ধীরে দোলমঞ্চ আর রাসমঞ্চের দিকে এগিয়ে যায় । রঙ্গীল লক্ষ করে ঝোপের ভিতর সেই ছটফটানিটা শান্ত হয়ে গেছে । কোনও পাখিটাখি হবে হয়তো। শুধুশুধুই তারা এতো ভয় পেয়ে গেল । ভাবতে ভাবতে তারা রহস্য উদ্ঘাটনের আনন্দে এগিয়ে চলল।

 

ক্রমশ...

Sun 25 Jul 2021 20:41 IST | শুদ্ধেন্দু চক্রবর্তী