ধা|রা|বা|হি|ক: কয়েকটি প্রেমের গল্প |পর্ব ১৮|

kpg18a_illastration-td-sarkar.png

অলঙ্করন: দেব সরকার

জীবনের রোজনামচায় আকস্মিক তার আগমন। স্থায়িত্বে কোথাও সে পূর্ণাঙ্গ, আবার কোথাও অসম্পূর্ণ। রূপক এ নয়, নানান জীবনচর্যায়, সেই পূর্ণ অপূর্ণের রূপ নিয়ে দেবপ্রিয় চক্রবর্তীর ধারাবাহিক কথামালা...

| পর্ব ১৮ |

লীনা

 

অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করে অধৈর্য হয়ে শেষ পর্যন্ত মেসেজ করল লীনা,
‘কি হলো এখনো ফোনে?’ কোন উত্তর এলো না ।
মিনিট দশেক অপেক্ষা করে নম্বরটাই ডায়াল করে বসল ।
নাম্বার আন্‌রীচেবল ।
এবার একটু চিন্তিত হয়ে পড়ল লীনা । কি হলো ? অনেক রকম চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল । বারান্দায় গিয়ে বসলো ।দিদির দেওয়া ঘুমোনোর সাজেশনটা নিল না । রাত প্রায় সাড়ে এগারোটায় অভির ফোন এলো ।
–‘হ্যালো, লীনা, সরি, একটা বাজে খবর আছে, তোমাকে জানাতে পারিনি... ফোনের ব্যাটারিটা শেষ হয়ে গিয়েছিল । অরুণ  বাড়ি ফেরার সময় একসিডেন্ট করেছে ।’
–‘সে কি? কি করে ? কোথায় ? বেশী লেগেছে কি ?’
ক্লান্ত গলা অভির –‘লেগেছে ভালোই । বাঁ পা-এর গোড়ালিটা ডিজলোকেটেড । কাল সকাল ন’টায় অপারেশন । এখন আমি  বাড়ি ফিরলাম । সকালে যেতে হবে আবার ।’ স্পষ্টই চিন্তিত অভি ।
নিজেও একটু বিচলিত বোধ করল লীনা ।
–‘কি বলল ডাক্তার ? চিন্তার কিছু নেই তো ? ঠিক হয়ে যাবে আশা করি ?’
–‘সেটা অপারেশনের পর বোঝা যাবে । তবে কম পক্ষে এক মাস তো আটকে গেল বাড়িতে ।’
–‘সত্যি । কি বিপদ হল বলতো বেচারার ।’
–‘হ্যাঁ । এখানে থাকবে, না বাড়ি যাবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে অপারেশনের পর ।’ চিন্তিত গলায় বলল অভি ।
–‘কোথায় বাড়ি ওর ?’ প্রশ্ন করল লীনা ।
–‘পাটনায় । ওর মা বাবাও ওখানেই থাকেন ।’ একটু চুপ করে থেকে বলল অভি, -‘লীনা একটা প্রবলেম, কাল বোধহয়  আমাদের  দেখা হবে না । অন্তত লাঞ্চে নয় ।’
–‘সেটা ডিজেপয়েন্টিং কিন্তু এতে তো কারোর কিছু করার নেই অভি । তুমি ওকে অ্যাটেন্ড কর। আমরা আরেকদিন দেখা করব ।’
–‘না না শোনো । রাতে তো আসতে পারো কোথাও... ডিনারে ।’
–‘সে হতেই পারে । কাল কথা বলে নেব যদি তুমি ফ্রি হয়ে যাও তবে রাতেই দেখা হবে ।’
–‘ঠিক আছে এবার একটু ঘুমানোর চেষ্টা করি ।’
ফোনটা কেটে বুঝল লীনা, একটু হতাশ লাগছে । কিন্তু ডিনারের সম্ভাবনা তো আছে। অভির বন্ধুর অপারেশনটা জরুরি ।  ঘুমোতে  ইচ্ছে করছিল না । কিছুক্ষণ এপাশ ওপাশ করল। তারপর ফোনটা তুলে নিয়ে লিখল । ‘ঘুমিয়ে পড়েছো ? কল  করব ?’ এক মিনিটের মধ্যেই বেজে উঠল ফোনটা । অভির কল, -‘হ্যালো ?
–‘সরি ঘুম ভাঙ্গালাম ?’
–‘না,না ঘুমোই নি । আমিও ভাবছিলাম কল করবো কিনা । আসলে সন্ধ্যে বেলা ঘুমিয়ে পড়েছিলাম এখন এত চট করে ঘুম পাবে না।’
এবার মনটা হাল্কা লাগল লীনার । বলল, –‘ অভি, একটা কথা বলবো ?
–‘বল।’
–‘কাল যদি সম্ভব হয় তবে ডিনারটা কিন্তু মিস করো না । অপারেশনটা ঠিক মত হয়ে গেলে রাতে তো ফ্রি । মাথায় রেখ ।’
এবার সেই প্রশ্রয় ভরা নরম গলা অভির । -‘লীনা এটা তোমাকে বলতে হবে ভাবলে ? যখন ফ্রি হব তোমাকেই ফোন করবো ।  আর  ডিনার তো মোটামুটি শিওরই । তোমার কি মনে হয় আমি এক মুহুর্ত দেরি করব বিনা কারণে ?’
–‘থ্যাঙ্ক ইউ অভি । জানি না কেন আমাদের মিটিং-টার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছি ।’
–‘লীনা কারণ খুঁজো না । ব্যস্ততাটাই রাখো । আমিও তাই করছি ।’ হাল্কা হাসল অভি ।
–‘ঠিক বলেছ । আচ্ছা কোন হসপিটালে আছে অরুণ ?’
–‘মেডি কেয়ার ।  বাই পাসের ওপর যে নতুন হাসপাতালটা খুলেছে, সেটায় ।’
–‘শুনেছি ভাল হসপিটাল ।’
–‘হ্যাঁ ভাল, এক্সপেন্সিভও ।’
আরও কিছুক্ষণ গল্প করে খুশি মনে ঘুমোল লীনা।

                                                                                                                                                                       

ক্রমশ...

 

Sun 12 Sep 2021 18:39 IST | দেবপ্রিয় চক্রবর্তী